নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঝালকাঠির পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকে আসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে। পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) জরুরি তলবের পর সোমবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা ফিরে যান। এ ঘটনাকে ঘিরে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে, ৫ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।ওই প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বদরুল আলম মোল্লার একটি কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ওই অডিওতে পুলিশ সুপার পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তবে ভাইরাল অডিওটির সত্যতা কিংবা উত্থাপিত অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের বিষয়ে বদরুল আলম মোল্লা বলেন, তার বদলি সম্পূর্ণ সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি। ভাইরাল কল রেকর্ডটি বিকৃত, বিভ্রান্তিকর এবং তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দৈনিক দেশ রূপান্তরের ঢাকা অফিসের সাংবাদিক হামিদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি অংশ বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বর্তমানে ঝালকাঠির দায়িত্বে আছেন কি না,এমন প্রশ্নের জবাবে বদরুল আলম মোল্লা বলেন, আমাকে আপাতত ওয়েটিংয়ে রাখা হয়েছে। পরে জানানো হবে, কোন জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ঘটনার প্রকৃত কারণ, ভাইরাল অডিওর সত্যতা এবং আকস্মিকভাবে দায়িত্ব পরিবর্তনের পেছনের বাস্তবতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।