স্টাফ রিপোর্টার।।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশাল বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আড্ডা থেকে শুরু করে ঠিকাদার মহল,সবখানেই এখন একটি নাম ঘুরেফিরে আসছে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তিনি যেন কেবল একজন নির্বাহী প্রকৌশলী নন, বরং বদলি, পদায়ন, দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক! যদিও এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামছে না।
যশোরের বাসিন্দা হলেও কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে বরিশালে। প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এলজিইডির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, সরকারি চাকরিতে নিয়মিত বদলির সংস্কৃতি থাকলেও কীভাবে একজন কর্মকর্তা এত দীর্ঘ সময় ধরে একই অঞ্চলে নিজের প্রভাববলয় অটুট রাখতে সক্ষম হলেন?
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রহমত-ই-খুদা। বিশেষ করে তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের আশীর্বাদপুষ্ট কিছু ঠিকাদার গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সখ্যতা ছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয় মহলের একাংশের অভিযোগ, কয়েকজন আলোচিত ঠিকাদারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্প ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠতে থাকে। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
সূত্র বলছে, নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। সংগঠনটির ১০১ সদস্যের কমিটিতে তার অবস্থান ৫৭ নম্বরে সমালোচকদের প্রশ্ন,এটি কি শুধুই একটি পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ, নাকি প্রশাসনিক করিডোরে প্রবেশের বিশেষ ভিআইপি পাস?
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনকে ঘিরে।অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ শূন্য হওয়ার পর একাধিকবার রহমত-ই-খুদা ওই দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ তখন তার চেয়ে সিনিয়র কর্মকর্তারাও কর্মরত ছিলেন।এ নিয়ে অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলছেন, এলজিইডিতে সিনিয়রিটি নয়, হয়তো কোনো অদৃশ্য জিপিএস কাজ করে,যার গন্তব্য সবসময় একই জায়গায় গিয়ে থামে।
অভিযোগ আরও গুরুতর। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কোনো কর্মকর্তা বদলির আদেশ পেলে সেটি পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখায় বিভিন্নভাবে তদবির চালানো হতো।একাধিক সূত্রের দাবি, বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা বদলির বিষয়ে রহমত-ই-খুদার মতামত অনেক সময় অস্বাভাবিক গুরুত্ব পেত। ফলে অনেকের কাছেই প্রশ্ন,প্রশাসনিক আদেশ কি ফাইলে লেখা হতো, নাকি অন্য কোথাও?
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন নিরুৎসাহিত করা হলেও বরিশাল অঞ্চলে অনেক কর্মকর্তা বছরের পর বছর একই জায়গায় কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এ নিয়ে স্থানীয়দের মন্তব্য,বরিশালে কিছু চেয়ার যেন সরকারি নয়, পারিবারিক সম্পত্তি!
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুরনো প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় রয়েছে কি না,সে প্রশ্নও সামনে আসছে।স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি মনে করেন, রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু একজন কর্মকর্তাকে নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রশ্ন রইল...বরিশাল অঞ্চলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রভাব কতটা?সিনিয়র কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল?বদলি ও পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটুকু?আর সবচেয়ে বড় প্রশ্নএলজিইডির প্রশাসন কি নিয়মে চলে, নাকি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণে ?এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।