স্টাফ রিপোর্টার।।জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জমা পড়েছে। তবে অভিযোগের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অভিযোগের ধরন, সময় এবং এর নেপথ্যের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মামলায় ফয়সাল আলম নাম উল্লেখ করা হলেও কোথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই তিনি কোন জেলার কর্মকর্তা, কোন দপ্তরে কর্মরত কিংবা তার নির্দিষ্ট পদবি কী। ফলে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে,এটি কি প্রকৃত তদন্তের ফল, নাকি একটি নামকে কেন্দ্র করে কাউকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা?
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে ২০২৬ সালের মে মাসে অর্থাৎ ঘটনার প্রায় দুই বছর পর।প্রশ্ন হলো, যদি অভিযোগ এতটাই গুরুতর হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন কোথায় ছিল অভিযোগকারীদের বিবেক?ঘটনার সময় বা পরবর্তী মাসগুলোতে কেন কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি?হঠাৎ করে এখন কেন এই তৎপরতা?সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কিছু গোষ্ঠী পুরোনো ঘটনাকে হাতিয়ার বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে কি না,সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
মামলায় ফয়সাল আলমকে ১৪০ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি, প্রশাসনিক রেকর্ড কিংবা ঘটনার বিবরণে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে।ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,এটি কি তথ্য-উপাত্তভিত্তিক তদন্তের ফল,নাকি গণহারে নাম যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা?আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,কোনো মামলায় নাম থাকা মানেই অপরাধী হওয়া নয়। অপরাধ প্রমাণের দায় রাষ্ট্রের,অভিযোগকারীর নয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে আসছে।অভিযোগ রয়েছে, সরকারি প্রকল্প, টেন্ডার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং প্রভাবশালী মহলের অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাত থেকে তৈরি হয়েছে এই বিরোধ।অনেকের ভাষায়,যখন সরাসরি মোকাবিলা সম্ভব হয় না, তখন চরিত্রহননই হয়ে ওঠে সবচেয়ে সহজ অস্ত্র।
একজন সরকারি কর্মকর্তা কি নিজের খেয়ালখুশি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন? নাকি তিনি সরকারের নীতিমালা,দাপ্তরিক নির্দেশনা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই দায়িত্ব পালন করেন?যদি কোনো কর্মকর্তা তার দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন,তাহলে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর পর তাকে ব্যক্তিগতভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কতটা ন্যায়সঙ্গত?এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি বলে মনে করছেন প্রশাসন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে একজন কর্মকর্তাকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা।কোনো আদালত এখনো অভিযোগ প্রমাণ করেনি।কোনো তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়নি।তবুও যেন রায় হয়ে গেছে!এমন পরিস্থিতিকে অনেকেই আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করছেন।
প্রশ্ন উঠছে, এই অভিযোগের পেছনে কি শুধুই ন্যায়বিচারের দাবি?নাকি রয়েছে প্রশাসনিক প্রতিহিংসা,টেন্ডারবাজ চক্র, ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ?কেন একটি নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে ঘিরেই এত তৎপরতা?কার স্বার্থে চলছে এই প্রচারণা?আর কারা লাভবান হবে যদি তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
ফয়সাল আলম দোষী না নির্দোষ,সেটি নির্ধারণ করবে আদালত এবং তদন্ত সংস্থা।কিন্তু তদন্তের আগেই কাউকে অপরাধী বানিয়ে জনমত তৈরির চেষ্টা, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং প্রশাসনিকভাবে চাপে ফেলার সংস্কৃতি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ফয়সাল আলম কি সত্যিই অপরাধী, নাকি তিনি কোনো অদৃশ্য স্বার্থগোষ্ঠীর পরিকল্পিত টার্গেট?সত্য উদঘাটনের দায় এখন তদন্ত সংস্থার।কিন্তু তার আগে জনআদালত বসিয়ে রায় দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত,এটাই সচেতন মহলের প্রত্যাশা।