
নিজস্ব প্রতিবেদক।।আইনের পোশাক পরে কি এখন দরদাম’করেই তদন্ত হয়? অভিযোগ উঠেছে, মামলা তদন্ত নয়,বরং কে কত দিল সেই হিসাবেই নাকি রিপোর্ট লিখেছেন বন্দর থানার এসআই আবদুল জলিল!ভুয়া তদন্ত প্রতিবেদন,সাক্ষীর জবানবন্দী জালিয়াতি ও ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ এনে আইজিপি কমপ্লেইন সেল ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক অসহায় জেলে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বেলাল।অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই থানায় কর্মরত থাকার সুবাদে এসআই আবদুল জলিল স্থানীয়ভাবে এক প্রভাবশালী সমঝোতা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। জুয়া আসর থেকে শুরু করে অবৈধ রেনুপোনা পাচার,বিভিন্ন অপকর্মে সহায়তার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে এবার অভিযোগ আরও ভয়াবহ,টাকার বিনিময়ে আদালতে মনগড়া তদন্ত রিপোর্ট!
ভুক্তভোগী বেলাল জানান, তিনি একজন দরিদ্র জেলে। নদীতে মাছ ধরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কোনোরকমে জীবন চালান। বাবার মৃত্যুর পর বসতঘর নিয়ে বড় বোন মিনারা ও তার স্বামী নয়নের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়া স্ট্যাম্প তৈরি করে তারা সরকারি খাসজমির ঘর দখল নেয় এবং প্রতিবন্ধী ভাই-বোনকে উচ্ছেদ করে।পরে সালিশে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বেলাল সেই টাকা নিয়ে গেলে উল্টো তাকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয় মিনারা-নয়ন চক্র। এ ঘটনায় আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন তিনি। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় তদন্ত নাটক!অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল জলিল প্রথমে বাদীর কাছ থেকে মামলার খরচ নামে টাকা নেন। এরপর অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকেও মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তদন্ত না করেই আদালতে উল্টো প্রতিবেদন জমা দেন। শুধু তাই নয়, যেসব সাক্ষীর সঙ্গে কখনো কথাই বলেননি,তাদের নামে নাকি আদালতে জবানবন্দীও দাখিল করেছেন!
স্থানীয়দের ভাষায়,এ যেন তদন্ত কর্মকর্তা না, চলন্ত এটিএম মেশিন! যেদিকে টাকা, সেদিকেই রিপোর্ট!ভুক্তভোগী বেলাল বলেন,আমি ফোনে ভুল তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই জলিল আমাকে থানায় এসে দেখা করতে বলেন।পরে তিনি ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন এবং নেয়া টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও বলেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে এখন চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজার,সবখানেই আলোচনা,তদন্ত কি এখন আদালতের জন্য হয়,নাকি টাকার মালিকের জন্য?অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মামলার একাধিক সাক্ষী জানিয়েছেন,তদন্ত কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে কখনো যোগাযোগই করেননি। অথচ আদালতে তাদের নামে জবানবন্দী দাখিল করা হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত হয়েছে নাকি ডেস্কে বসেই স্ক্রিপ্ট লেখা হয়েছে?
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আবদুল জলিল সরাসরি কথা বলার জন্য থানায় আসতে বলেন। তিনিভুল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
এখন দেখার বিষয়,আইজিপি কমপ্লেইন সেল এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে কি না, নাকি অভিযোগের ফাইলও শেষ পর্যন্ত কোনো ড্রয়ারের অন্ধকারেই হারিয়ে যায়!